কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড’ নামে একটি তামাক কারখানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারখানাটির আগের নাম, পুরোনো মালিকানা এবং বর্তমান মালিকানা নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী দাবি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কারখানাটির ভেতরে কয়েকজনের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম জিয়া উদ্দিন রনিসহ কয়েকজন নেতাকর্মীও ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো’ নামের প্রতিষ্ঠানটি আগে ‘তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো’ নামে পরিচালিত হতো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের পরও আগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে দায়িত্বে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে বর্তমান মালিকানা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কে এম জিয়া উদ্দিন নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির সম্পূর্ণ মালিক দাবি করেছেন। তাঁর দেওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একটি ট্রেড লাইসেন্সে ‘এম. কে. এম জিয়া উদ্দিন’কে মালিক বা প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জিয়া উদ্দিনের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নওফেল বা আবদুস সবুর লিটনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, আগে ‘তারা টোব্যাকোতে’ কাজ করলেও পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার জাকির হোসেনের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি ইজারা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের একটি চুক্তির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৩ বর্গফুট জায়গা ও তিনটি কারখানা শেড ১০ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে ৪ কোটি টাকা জামানতের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একজন দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরকে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আবদুস সবুর লিটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিও দাবি করেছেন, ৫ আগস্টের পর প্রতিষ্ঠানগুলো জিয়া উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অর্থ যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা নেতারা জানিয়েছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওই সফর দলীয় কোনো কর্মসূচির অংশ ছিল না। জেলা সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত সফর ছিল এবং স্থানীয় নেতারা আগে থেকে বিষয়টি জানতেন না।
জেলা আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনিও জানান, পাটওয়ারী ফোনে তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ভেড়ামারায় এসেছেন। পরে কুষ্টিয়ায় দেখা করার কথা হয়েছিল।
এর আগে ৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া সফরের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইয়ের মাজার এলাকায় হামলার শিকার হন বলে খবর আসে। এ সময় তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে এবং পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কাছে কারখানা সফর ও মালিকানা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।