আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে শিল্পখাতে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের এবং এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা। ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
বর্তমান গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে। ফলে আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।