সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি খাসজমি চাষ করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। প্রায় চার বিঘা আয়তনের জমিটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করত। মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় গ্রামে ট্রাক্টর দিয়ে জমিটি চাষ করা হয়। অভিযুক্ত হেকমত আলী সরকার সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির। তিনি জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন।
সলপ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন জানান, জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ না হওয়ায় জায়গাটি স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
জমির মালিকানা নিয়ে হেকমত আলী সরকার বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের জিম্মি করে জায়গাটি দখল ও মাটি ভরাট করেছিলেন। এখন তারা নিজেদের জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন। এ জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের জন্য সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। পরে জমিটি অব্যবহৃত থাকায় স্থানীয়রা খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করতেন। সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, জায়গাটি খেলার মাঠ নয়। সেখানে থাকা সরকারি কিছু জমি এলাকার লোকজন বিভিন্ন সময়ে লিজ নিয়ে চাষাবাদ করতেন। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাহজাহান আলীর ভাষ্য, বিগত সরকারের আমলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মাটি ভরাটের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এ নিয়ে মামলা হয়। বর্তমানে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।