কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক যুবতীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলার পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে জিসানের বিরুদ্ধে। মামলায় আরও তিনজনকে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। ব্যক্তিগত একটি ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।