জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সাবেক নেতা রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, কথিত ওই অর্থ পরিশোধের জন্য এনসিপি এখন ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ চালু করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে আর অর্থ দেবে না বলে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে বন্যার অনুদানের অর্থ নিয়ে অতীতে অভিযোগ ওঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের অর্থ সংগ্রহে এনসিপি আবারও অনলাইনভিত্তিক ‘গণভিক্ষা’ কার্যক্রমে জোর দিতে পারে।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, এনসিপির কয়েকজন নেতার জীবনযাত্রায় গণঅভ্যুত্থানের পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তাদের কার্যালয়, বাসা ও জীবনযাপনের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দুর্নীতি ও অর্থের উৎস নিয়েও অভিযোগ করেন।
এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, বিএনপি এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ না দেওয়ায় এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই এনসিপির মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং দলটি ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।
পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহসহ এনসিপির কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে এনসিপির নেতারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য ও অভিযোগ তার ব্যক্তিগত দাবি। ১০০ কোটি টাকা অর্থায়ন, দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের অভিযোগের পক্ষে তার পোস্টে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।