তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করছে না, তবে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা হবে।
তিনি জানান, এবারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের প্রভাব থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো প্রকল্প কত টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হলো তা নয়, বরং সেটি মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
তিনি জানান, অর্থনৈতিক কৌশল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং তৃতীয় ধাপে উৎপাদনশীল, উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাবে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে একটি উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।