ক্ষমতার চেয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবাইকে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বল্পমূল্যের ‘পাঁচ টাকায় পূজার বাজার’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আবদুস সালাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এক টাকায় এক ডজন ডিম এবং পাঁচ টাকায় শাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার মতো উদ্যোগ মানুষের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষসহ নিম্ন আয়ের ব্যক্তিরা এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও দেশের অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তাই দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়—এমন কর্মসূচি এড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পাঁচ বছর পর জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ দরিদ্র মানুষ বা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে অহেতুক রাজনীতি না করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৮টি পূজামণ্ডপে উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও উৎসব উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।