বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর এগিয়ে নিতে শিগগির ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগেই এ সফর হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হবে।
সফরে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, তিস্তা ইস্যু, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ সহজ করা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। শপথ অনুষ্ঠানেও ভারতের লোকসভা স্পিকার ও পররাষ্ট্র সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগও দেখা গেছে। ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু হওয়া, যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরু এবং জ্বালানি সংকটের সময়ে ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহের মতো বিষয়গুলোকে সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সময়ে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে এবং এতে দেশটির সরকার জড়িত নয়।
সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বাংলাদেশের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি নয়াদিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের স্বার্থকেন্দ্রিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি আলোচনায় বসলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।