আগামী বছরের হজযাত্রার বিমান ভাড়া কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
হাব সভাপতি বলেন, এয়ারলাইনসগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে হজের সামগ্রিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট’-এর নামে বিমান সংস্থাগুলো হাজিদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এতে সাধারণ হজযাত্রীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, “টিকিটের দাম ও মোয়াল্লেমের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার হাজির সংখ্যা কমেছে। বিমান ভাড়া যদি ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখা যেত, তাহলে ১ লাখ ২৯ হাজার হাজি হজে যেতে পারতেন।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বছর হজের টিকিটের দাম কমবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা গেলে হজের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবারের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা এবং তাঁবু নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে হয়েছে। তবুও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ের কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি।
হজের বিমান ভাড়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “বাস্তবে বাংলাদেশ থেকে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় না। কিন্তু সেই অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তাই বিমান ভাড়া যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা সৌদি সরকারের নতুন কিছু নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন। তারা দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় তারা আশ্বস্ত করেন, ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। ফলে কোটা অনুযায়ী দেশের সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারবেন এবং বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে হাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং আশকোনা হজ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।