পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের গতি ফিরেছে। পরিবার-পরিজনের উৎসবের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি করে টাকা পাঠানোয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই ২২০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে মোট রিজার্ভ ছিল ২৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রিজার্ভের পতন ঠেকাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে কড়াকড়ি এবং ডলার বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা হয়। এর ফলে গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি এবং জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ঈদের কারণে প্রবাসী আয়ের সরবরাহ বাড়ায় রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং রপ্তানি খাতকে সুরক্ষায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে ডলার সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হবে।