গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ সংশোধনের লক্ষে আনা ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এই সংশোধনীর ফলে ব্যাংকটির পর্ষদ গঠন ও মালিকানা কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আসছে, যেখানে সরকারের অংশীদারত্ব ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় অর্থমন্ত্রী বিলটি বিবেচনার প্রস্তাব পেশ করেন। ডেপুটি স্পিকার বিলটি ভোটে দিলে কোনো সংশোধনী না থাকায় এটি সরাসরি পাস হয়। এর আগে গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা এখন আইনি ভিত্তি পেল।
নতুন আইন অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকার ৯০ শতাংশ মালিকানা এখন ঋণগ্রহীতা বা শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকবে, যা আগে ছিল ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারের অংশীদারত্ব ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অবসরের বয়সসীমাও ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদ গঠনেও আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন। ১৩ সদস্যের পর্ষদে এখন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক, যিনি গ্রামীণ অর্থনীতি বা নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবেন। এছাড়া পর্ষদের বাকি মনোনীত দুটি পদের একটি নারী সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ (সিএ) এবং অন্যটি নারী অধিকার বিষয়ক গবেষক বা আইনজীবীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই তিন পরিচালককে মনোনয়ন দেবেন নির্বাচিত নয়জন ঋণগ্রহীতা পরিচালক। সরকার এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে মাত্র একজন পরিচালক নিয়োগ দিতে পারবে, যেখানে আগে সরকারের তিনজন প্রতিনিধি থাকতেন।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়ায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকলেও এখন থেকে পর্ষদ সদস্যদের মধ্য থেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। এমনকি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে স্থলাভিষিক্ত করার ক্ষমতাও পর্ষদকে দেওয়া হয়েছে। পরিচালকদের মেয়াদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল রয়েছে; একজন পরিচালক টানা দুই মেয়াদে (মোট ছয় বছর) দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং পুনরায় দায়িত্ব পেতে হলে তাঁকে তিন বছর বিরতি নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট গ্রামীণ ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যানের চুক্তি বাতিলের পর অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর নেওয়া আইনি সংস্কারের উদ্যোগই আজ বিল হিসেবে সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।