ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ফয়সাল করিম মাসুদের রয়েছে নিজস্ব একাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও হত্যাসহ নানা অপকর্মে ব্যবহার হতো এসব অস্ত্র। মাঝেমধ্যে ভাড়ায়ও দেওয়া হতো। নিজ বাসার ডাইনিং টেবিলের নিচে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা ড্রয়ারে রাখতেন ওইসব আগ্নেয়াস্ত্র। বিষয়টি পরিবারের সবাই জানলেও কেউ কিছুই বলত না। অস্ত্রের বিষয়ে পরিবারের লোকজন ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে সে বলত, ‘ঠিকাদারি করলে অস্ত্র রাখতে হয়।’
জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই জানিয়েছেন গ্রেফতার ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাদের সামিয়া আরো জানান, বাসার ডাইনিং টেবিলটি অস্ত্র রাখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করে ফয়সাল। সেখানে অস্ত্র রাখার বিষয়টি ফয়সালের মা ও বাবা জানতেন। তারা কখনো ছেলেকে এসব নিয়ে কিছু বলতেন না।
এখন পর্যন্ত ফয়সালের তিনটি অস্ত্র ও বেশকিছু গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীকে ফের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে ওসমান হাদির লাশের। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওসমান হাদির ময়নাতদন্ত শনিবার ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে শেষ হয়। এর আগে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। এছাড়া হত্যাচেষ্টার মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর করতে ধারা সংযোজন করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফয়সালের বিভিন্ন ব্যাংকের ১১টি অ্যাকাউন্টের লেনদেন ঘিরে চলছে তদন্ত। কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে সেখানে টাকা ঢুকেছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার চেকের টাকার পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জব্দ তালিকার ভিত্তিতে এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন।
টিবিএফ/