আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষতা ভঙ্গের দায়ে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনকে সংসদ নির্বাচনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। শনিবার(২৭ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে ভোর বেলায় লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক 'ধানের শীষ'-এর পক্ষে ভোট চাওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দাগনভুঞা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, আমি আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাটের সিরাজপুরে ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গ্রামের তরুণ যুবক ও প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ করছিলাম, এ ফাঁকে আমার অজ্ঞাতসারে কেউ একজন ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি আমার জানা ছিলো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহিদুল ইসলাম জানান, "নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে কোনোভাবেই নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট রাখা হবে না। দাগনভূঞা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উনার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাটে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার ঘটনায় আমরা তাকে নির্বাচনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।