শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ২টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে ঘিরে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা আজ সোমবার বেলা সোয়া ২টা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এতে শাহবাগ মোড় বন্ধ হয়ে পড়লে আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংগঠনটি এ নিয়ে টানা চার দিন ধরে শাহবাগ এলাকায় কর্মসূচি পালন করছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ২টা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টার পর থেকেই বিক্ষোভকারীরা দলে দলে শাহবাগ মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন। প্রথমে মোড়ের আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পরে সোয়া ২টার কিছু পর শাহবাগ মোড় পুরোপুরি অবরোধ করে দেওয়া হয়।
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে গত শুক্রবার দুপুর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগে ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষও সংহতি জানিয়ে অংশ নিচ্ছেন।
এর আগে গতকাল রোববার সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। পরে রাত ১০টার দিকে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের খুনিদের গ্রেপ্তার, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের কাজের অনুমতি বাতিলসহ চার দফা দাবি ঘোষণা করেন।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। তারা একের পর এক স্লোগান দিয়ে ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করছেন। কেউ মাথায়, কেউ হাতে জাতীয় পতাকা বেঁধেছেন। কর্মসূচিতে কবিতা আবৃত্তি চলছে, কেউ কেউ ওসমান হাদিকে নিয়ে তৈরি গানও পরিবেশন করছেন।
এ সময় মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব; আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব; শাহবাগ না ইনসাফ, ইনসাফ ইনসাফ; জান দিয়েছে হাদি ভাই, জুলাই কিন্তু বেঁচে নাই; বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই; যেই হাদি জনতার, সেই হাদি মরে না; বাংলাদেশের আজাদী, ওসমান হাদি; সুশীলতার দিন শেষ, বিচার চাই বাংলাদেশ’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১) খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনে সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী ও আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনি চক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
২) বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
৩) ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া সব খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
৪) সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।