ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ বিষয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের চার দিন আগে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন শুরু হবে এবং ভোটগ্রহণের পর আরও দুই দিনসহ মোট সাত দিন, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় সারা দেশে ৭ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
পরিপত্রে আরও জানানো হয়েছে, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৫ থেকে ১৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে এ সংখ্যা হবে ১৭ থেকে ১৮ জন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দুই লাখ ৬০ হাজারের মতো ভোটকক্ষ থাকবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ হাজারের বেশি সদস্য স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন সাড়ে ৫ লাখের মতো আনসার ও ভিডিপি সদস্য। গ্রামপুলিশ বা দফাদাররা প্রতিটি কেন্দ্রে সাত দিনের জন্য এবং প্রান্তিক ভিডিপি সদস্যরা প্রশিক্ষণসহ মোট আট দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।
এ ছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। বিজিবি ও র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন এবং মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য অস্ত্রসহ নিয়োজিত থাকবেন।
ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে ও পরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল এবং ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব লাইসেন্সধারী ব্যক্তির অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করার পরদিন এক সম্ভাব্য প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হন। এরপর দুটি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয় এবং নির্বাচন অফিসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
তফসিল ঘোষণার আগে দুই দফা এবং তফসিল ঘোষণার পর বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। এসব বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এ পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।