সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ১৪ জানুয়ারি শরিয়াহভিত্তিক সুকুক বন্ড ইস্যু করা হচ্ছে, যা ইজারা পদ্ধতিতে ১০ বছর মেয়াদে পরিচালিত হবে এবং এতে বার্ষিক ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (১২ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সুকুক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। নতুন গঠিত ব্যাংকটির জন্য এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগ উদ্যোগ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় নির্মিত সরকারি কর্মচারীদের সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালিত নির্দিষ্ট রেলসেবাকে ভিত্তি করে এ সুকুক ইস্যু করা হবে। বন্ডটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুকূলে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সরকার বিশেষ সুকুক-১’ নামে এই বন্ড ইস্যুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অধীন গঠিত শরিয়াহ্ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে, অন্যদিকে সুদবিহীন দীর্ঘমেয়াদি তহবিল গঠনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি ইসলামি ব্যাংকিং খাতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পেছনে রয়েছে আগের কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সংকট। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো গভীর সংকটে পড়ে। ওই পরিস্থিতিতে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার সরবরাহ করছে ২০ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে এসব ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকায়, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত।