ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে সেখানে অবস্থানরত ‘দণ্ডিত অপরাধীদের’ তালিকা ও আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হবে।
সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর নতুন সরকারের এই কূটনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তাঁরা দুজনই এখন বাংলাদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডিত অপরাধী। বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যর্পণের জন্য খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তালিকা ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেওয়া হবে।’
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদও ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার একটি জমি ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ লেবার পার্টিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনি ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাননি এবং অভিযোগের বিস্তারিত তাঁকে জানানো হয়নি; তাই তারা রায়টি স্বীকার করে না।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থে অপরাধীদের ফেরত দেওয়া উচিত।’ তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির মাধ্যমে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ জব্দের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অর্থ পাচার রোধে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এর পর ঢাকা-লন্ডন সম্পর্কের আলোচনায় প্রত্যর্পণ ইস্যুটি গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।