নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নথিপত্র রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নথিপত্র সরিয়ে ফেলা তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং নাগরিকের তথ্য জানার অধিকারের পরিপন্থী।
‘অনতিবিলম্বে তথ্য কমিশন গঠন এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর অনেক সিদ্ধান্তই ‘অন্ধকারে’ বা অস্বচ্ছভাবে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাই পূর্ববর্তী সরকারের সঠিক বা ভুল সব তথ্যই নাগরিকদের জানার অধিকার রয়েছে। নতুন সরকারের কাছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্যের অধিকার মানেই সত্য জানার অধিকার এবং এটি সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তথ্য কমিশন আমলাতান্ত্রিক প্রভাবে অকার্যকর ছিল এবং নাগরিক প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
বক্তারা তথ্য কমিশনে দলীয় বা আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ওপর জোর দেন। বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন যে, দেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত থাকলে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধ করা সম্ভব হতো। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত একটি কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।