আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিশেষ করে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বুধবার (১১ মার্চ) স্টেশন এলাকা পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এসব প্রস্তুতির তথ্য জানা গেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনের বাইরের প্রবেশমুখ, প্ল্যাটফর্ম কম্পাউন্ড এবং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের গেট—এই তিন ধাপে যাত্রীদের টিকিট প্রদর্শন করতে হবে। টিকিট ছাড়া কোনো ব্যক্তি যেন স্টেশন এলাকায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে স্টেশনের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে আলাদা লাইন তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের যাত্রা আরামদায়ক করতে রেলট্র্যাক, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও লোকোমোটিভ মেইনটেন্যান্সে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় জংশনগুলোতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে যারা সার্বক্ষণিক ট্রেন চলাচলের কাজ তদারকি করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় কোনো যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না।
আরএনবির ঢাকা বিভাগের সহকারী কমান্ড্যান্ট রোকনুজ্জামান খান জানান, আগে স্টেশনের ভেতরে পজ মেশিনের মাধ্যমে টিকিট করার সুযোগ থাকায় অতিরিক্ত ভিড় হতো, যা এবার পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে। এবার স্টেশনের প্রবেশপথেই টিকিট যাচাই করা হবে এবং হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে সচেতনতামূলক ঘোষণা দেওয়া হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় জিআরপি, আরএনবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রিজার্ভ টিমও প্রস্তুত থাকবে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও বিশেষ ব্যবস্থা:
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেন শিডিউল ঠিক রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে রেলপথ পেট্রোলিং ও ব্রিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানোর জন্য রিলিফ ট্রেনগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৯ মার্চ মধ্যরাত থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কন্টেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্য সব মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের আগে ও পরে ১০ দিন পর্যন্ত ট্রেনে কোনো ‘সেলুন কার’ সংযোজন করা হবে না।
স্টেশন ও ট্রেনের বিশেষ নির্দেশনা:
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সুন্দরবন, মধুমতি ও বেনাপোল এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যাবে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গগামী নয়টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে না। এছাড়া যাত্রীচাপ সামলাতে ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি (ডে-অফ) বাতিল করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি রেলভবনে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।