জাতীয় গ্রিড লাইনে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে আশুগঞ্জ-ভুলতা গ্রিড লাইনে এই সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাওয়ায় প্রায় ৫৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্ধ হওয়া ইউনিট দুটির মধ্যে রয়েছে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষম ‘ইউনিট ইস্ট’ এবং ৪৫০ মেগাওয়াট সক্ষম ‘ইউনিট নর্থ’। গ্রিড লাইনে বিপর্যয়ের সময় ইস্ট ইউনিট থেকে ২৫০ মেগাওয়াট এবং নর্থ ইউনিট থেকে ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আকস্মিক এই ত্রুটির ফলে দুটি ইউনিটের উৎপাদনই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, গ্রিড লাইনের সমস্যা কাটিয়ে ইউনিট দুটি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে নর্থ ইউনিটটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইস্ট ইউনিটটি পুনরায় সচল করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনীয় কারিগরি সিগন্যাল পাওয়ার পরই ইউনিটগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বর্তমানে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১,৫৮০ থেকে ১,৬০০ মেগাওয়াট হলেও গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে সাধারণত ১,২০০ থেকে ১,৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এই দুই ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।