অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে জনস্বার্থে জারি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছে জাতীয় সংসদের নবগঠিত বিশেষ কমিটি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা, দায় নির্ধারণ এবং গুম প্রতিরোধের মতো স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নেওয়া প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনি পদক্ষেপগুলোর আইনি বৈধতা এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে আলোচিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো— জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫। এ ছাড়াও সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৪, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ ২০২৪ এবং সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশগুলোর যথার্থতা ও জনগুরুত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পর্যালোচনার ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করা হবে। বাকি অধ্যাদেশগুলো নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপি, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বৈঠকে অংশ নেন ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক এমপি, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি, মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।