মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সারা দেশে আকাশ যোগাযোগে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাতে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরাসরি ফ্লাইট চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি এবং জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টিসহ মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হওয়া মোট ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৫টিতে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে হাজার হাজার যাত্রী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মী ও ইউরোপ-আমেরিকার ট্রানজিট যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফ্লাইট বাতিলের এই দীর্ঘ তালিকায় কুয়েত, শারজাহ, বাহরাইন, কাতার ও দুবাইয়ের রুটের ফ্লাইটগুলোর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলে বিমাবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে।