প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও মজুত করার প্রবণতাকেই দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বর্তমানে দেশে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি ঘাটতির চেয়েও এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত মজুত করার মানসিকতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এই কৃত্রিম সংকট উত্তরণে কাজ করে যাচ্ছে।’
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে, যা দিয়ে আগামী দুই মাসের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় তেল সরবরাহের অস্বাভাবিক ব্যবধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও মানুষ যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনে বা অবৈধ মজুত করে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে বাধ্য। তিনি আরও যোগ করেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জনগণের স্বার্থে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি এবং বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণের সহযোগিতা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি।
জ্বালানি তেল পাচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু কুচক্রী মহল তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব অসাধু চক্রকে কঠোর হস্তে দমন করতে বদ্ধপরিকর।’
পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব এবং কোনো প্রতিকূলতাই সরকারের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না।