দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা দেওয়া হবে। যেসব শিশু আগে টিকা নিয়েছে, সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদেরও পুনরায় এই টিকা দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে যারা হামে আক্রান্ত কিংবা জ্বরে ভুগছে, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হবে না; পরিবর্তে তাদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
প্রাথমিকভাবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও হামের প্রকোপ বেশি এমন ৩০টি উপজেলাকে এই কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, কর্মসূচিটি কেবল এই উপজেলাগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শিশুদের টিকার আওতায় আনা হবে। ২০২০ সালের জাতীয় ক্যাম্পেইনের পর জন্ম নেওয়া অনেক শিশু নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েছে, যা বিবেচনায় নিয়ে এই ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার থেকে যেসব উপজেলায় টিকাদান চলবে:
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা: নবাবগঞ্জ (ঢাকা), লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) এবং গাজীপুর সদর।
রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ী (রাজশাহী), পোরশা (নওগাঁ), ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া (পাবনা), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এবং নাটোর সদর।
বরিশাল বিভাগ: নলছিটি (ঝালকাঠি), মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ (বরিশাল), বরগুনা সদর এবং মাদারীপুর সদর।
ময়মনসিংহ বিভাগ: ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর (ময়মনসিংহ) এবং আটপাড়া (নেত্রকোনা)।
অন্যান্য এলাকা: হাইমচর ও সদর (চাঁদপুর), জাজিরা (শরীয়তপুর), মহেশখালী ও রামু (কক্সবাজার) এবং যশোর সদর।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবকদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ উদ্যোগ দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।