জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন (গ্যাসোলিন) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে এই ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিপুল পরিমাণ এই জ্বালানি মজুত করার উদ্যোগ নিল সরকার।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন (৯৫ আনলেডেড) আমদানি করা হবে। এছাড়া ইউএইর আরেক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে এই আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লে যেন অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই ছুটির দিনে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চও ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আজকের এই বিশাল আমদানির মাধ্যমে আগামী কয়েক মাসের জ্বালানি চাহিদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।