ভারত ও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়, যার প্রভাবে বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া অধিদফতর এই ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪.৮ বলে নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প পরিমাপ কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার। ভূপৃষ্ঠ থেকে কম্পনটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
বিকেলের এই হঠাৎ কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে উঁচু ভবনের বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে অনেকে ঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে আবহাওয়া অধিদফতর এই কম্পনটিকে ‘হালকা’ শ্রেণিভুক্ত করেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও জানমালের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল শিলচর সংলগ্ন উত্তর ও পূর্ব অক্ষাংশের সমন্বিত একটি এলাকায়। ভারতের আসামের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে এই কম্পন স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাস ধরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হচ্ছে। বারবার এমন কম্পন হওয়ায় ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।