মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মাহদী আমিন জানান, অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার বিষয়ে সরকার অনড়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের কর্মীরা যেন স্বল্প খরচে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে পারেন। এ লক্ষ্যে বাজারটিকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রমিক পাঠানো শুরুর সুনির্দিষ্ট সময় প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন এবং সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিয়োগকারী সংস্থা বা ‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। মালয়েশিয়া তাদের সব ‘সেন্ডিং কান্ট্রি’র জন্যই নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী এজেন্সি নির্বাচন করে। বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কোয়ালিফাইড বা ক্রেডিবল বলতে তাদেরই বুঝব যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছতার সাথে কর্মী নিয়োগ পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান এবং আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে জড়িত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে; আবার নির্দোষ ব্যক্তিরা যেন সুবিচার পায়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
বিদেশে অধিক সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দেওয়া জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার এই প্রত্যাশা পূরণে এবং জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।