বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবশেষ ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাবার সমাধিস্থলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর আজ আবার যাচ্ছেন বাবার সমাধিস্থলে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ বেলা ২টা ৫৮ মিনিটে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, বেলা তিনটার একটু আগে গুলশানের বাসভবন থেকে জিয়া উদ্যানের পথে রওনা হন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বাবার কবর জিয়ারত করবেন। পরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কেউ ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে জড়ো হন। বাবার কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে নেতা–কর্মীদের মধ্যে আবেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল চোখে পড়ার মতো।
তারেক রহমান আজ লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করেই জিয়া উদ্যানের দিকে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলেও তিনি এই বাসেই গিয়েছিলেন। আজও বাসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়ান। তবে বিপুল ভিড়ের কারণে তারেক রহমানের গাড়িবহর ধীরগতিতে এগোচ্ছিল।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শেরে বাংলা নগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জিয়ার সমাধি ও আশপাশের সড়কে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। দলীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের আগেই জিয়া উদ্যানসংলগ্ন রাস্তাগুলোতে জনসমাগম বাড়তে থাকে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।
বিএনপির নেতা–কর্মীরা জানান, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি নয়; বরং দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মুহূর্ত।
উল্লেখ্য, ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে স্বাভাবিক সময়ে আধা ঘণ্টার বেশি সময় না লাগলেও, নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢলের কারণে সেদিন সময় লেগেছে প্রায় তিন ঘণ্টা। ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রবল চাঙাভাব লক্ষ্য করা গেছে।