ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আসন সমঝোতায় বগুড়া–২ আসনে ছাড় পাওয়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র নিয়ে বিপরীত দুই সিদ্ধান্ত এলো। বগুড়ায় যাচাই–বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও এক দিন পর ঢাকা–১৮ আসনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শনিবার ঢাকা–১৮ আসনে যাচাই–বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর আদায় করছি। এর আগে আমি একাধিকবার নির্বাচন করেছি, কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। এবার প্রার্থী হতে গিয়ে আমাকে অত্যন্ত কষ্টকর একটি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বগুড়া–২ আসনে যাচাই শেষে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর হলফনামায় একাধিক অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার তথ্য উল্লেখ না করা এবং সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল না করাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়।
বগুড়ার এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান মান্না শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব যুক্তিতে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো আইনগতভাবে খুবই তুচ্ছ। কোথাও তারিখ লেখার ভুল, কোথাও তথ্য দুই জায়গায় না লেখা—এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ থাকে।’
তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, বগুড়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল ‘অত্যন্ত হতাশাজনক ও অস্বাভাবিক’। মান্নার দাবি, ওই আসনে যাচাই–বাছাইয়ের সময় একটি দলের পক্ষে একাধিক আইনজীবী একযোগে উপস্থিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি তাঁর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী আইনজীবীদেরও ধমক দেওয়া হয়।
ঢাকায় মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর এখানকার রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকার প্রশংসা করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যদি চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা যায়, তাহলে সেই নির্বাচনের কোনো অর্থ থাকে না। ‘তখন এত শহীদের আত্মত্যাগ, এত বড় আন্দোলনের কোনো মূল্য আর থাকে না,’ বলেন তিনি।
কোন আসনে থাকবেন মান্না
ডাকসুর দুবারের ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগেও বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ) আসনে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে কখনো সংসদে পৌঁছাতে পারেননি। চলতি নির্বাচনে বিএনপি–সমঝোতায় তাঁকে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার পাশাপাশি ঢাকা–১৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মান্না বলেন, ঢাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল করা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তিনি দুই আসনে মনোনয়ন জমা দেন।
রাজধানীর উত্তরা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম।
ঢাকা–১৮ আসনে মনোনয়ন টিকলেও বগুড়া–২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী মাহমুদুর রহমান মান্না। মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপিলে আমি জয়ী হতে পারব।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অধৈর্যতা দেখাচ্ছি না, কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগও করছি না। তবে আবেদন জানাচ্ছি, নির্বাচনের পবিত্রতা যেন ক্ষুণ্ন না হয়।’