আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং এই প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতেই থাকবে তাঁর অবস্থান।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিত সভায় বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সেখানে তিনি বলেন, যারা কখনো বাংলাদেশকে চায়নি, তারাই আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ভোটের মাঠে নামছে। অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার যে অপচেষ্টা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হলেও সেই আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। ওই সময় তিনি নিজে কারাগারে থাকলেও সংবাদপত্র, ভিডিও ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁর দাবি, যারা এখন মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারের রাজনীতি করছে, তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা তখন চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে ‘নতুন রিপাবলিক’সহ নানা ধারণা সামনে আনা হচ্ছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের মৌলিক চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে যে দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান কঠোর ও আপসহীন বলেও তিনি জানান।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। স্বাধীনতাকে যারা মানে না, তাদের এই দেশে থাকার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর ভাষায়, একবার-দুবার ভুলবশত বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন তা রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটি আর দুর্ঘটনা থাকে না, বরং বিশ্বাসে রূপ নেয়।
ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা শক্তি এই অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে তাঁর মতে, একটিই এজেন্ডা কার্যকর হবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। নির্বাচনের পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করার যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেটিই বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তাঁদের। গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা, যেখানে ভূখণ্ড নিরাপদ থাকবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে।
প্রয়োজনে দেশ রক্ষার প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন ইশরাক হোসেন। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত রাখতে হলে সংগঠিত উদ্যোগ দরকার। মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যাতে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও দুঃসাহস পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পায়।
বক্তব্যের শেষে তিনি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।