বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘সোশ্যাল ব্লেড' প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তার অবস্থান ৬৩তম। এই র্যাঙ্কিংয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
এবার বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এগিয়ে রইলেন তারেক রহমান। ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা ৫৬ লাখ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচার শুরু হয়েছে ২৩ জানুয়ারি, চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারী বেশি থাকলে প্রচারে সুবিধা হয়। প্রার্থীর নিজস্ব পরিচিতি আরো বেড়ে যায়। একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে আছেন তরুণরা। তবে রাজনীতিতে অভিজ্ঞ এবং প্রবীণরাও এখন ব্যবহার করছেন এই প্লাটফর্ম। দেশের তরুণ সমাজ বিগত তিনটি নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। অনেকে এবারই হয়েছেন ভোটার। ভোটারদের এই বড়ু অংশকে আকৃষ্ট করতে তারেক রহমানের এই বিশালসংখ্যক ফলোয়ার বিরাট ভূমিকা রাখবে।
তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খোলা। তার পেইজ থেকে তিনটি পেইজকে অনুসরণ করা হয়। তার মা সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মেয়ে জাইমা রহমান এবং বিএনপির পেইজ। তারেক রহমানের পেইজ থেকে নির্বাচনী প্রচারের কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের সুবিধা হলো অল্প সময়ে বেশিসংখ্যক মানুষ এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠির কাছে পৌঁছানো যায়।
তারেক রহমানের পরেই পরেই রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তার ফলোআর সংখ্যা ২৩ লাখ। আর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অনুসারী রয়েছেন ১২ লাখ। দলগুলোর প্রধান নেতাদের বাইরে অন্য নেতাদেরও লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও অনেকে ফেসবুকে সক্রিয়।
একটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে সাড়ে চার কোটির বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে। যদিও এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের মতো। ফলোয়ার বেশি এমন কয়েকজন প্রার্থীর পেইজ ফলো করে দেখা গেছে, তারা প্রতিদিনই সক্রিয় থাকছেন ফেসবুকে। কখন কোথায় ভোটারের কাছে যাচ্ছেন সেসব নিজেরাই প্রচার করছেন। ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
সোশ্যাল ব্লেডের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ফেসবুকে যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও কনটেন্ট শেয়ার করা হয়, সেসব ব্যক্তিকেই শীর্ষ ক্রিয়েটরের তালিকায় রাখা হয়। সেই হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।