জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে। এতে রাবার বুলেটে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন আহত হন।
শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে যমুনার দিকে যাত্রার ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চ–এর নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁরা মোড়টি থেকে রওনা হন। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তাঁরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এর আগে একই দিন সকালে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করেন। শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে আন্দোলনকারীরা তা ভেঙে এগিয়ে যান।
পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আবারও ব্যারিকেড দেওয়া হলে তা অতিক্রম করে যমুনার সামনে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে।
একপর্যায়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের মুখে আন্দোলনকারীদের একাংশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এবং অন্য অংশ কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও একাধিক দফা আলটিমেটাম দিয়ে জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রতিবেদন লেখা সময়েও তাঁদের কর্মসূচি চলমান ছিল।