রাজনীতিতে সক্রিয় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, নিজ নিজ অঙ্গনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি স্পষ্ট আচরণবিধি থাকা উচিত।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে উইমেন ইন ডেমোক্রোসি (উইনড) উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান, দায় ও দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
জাইমা রহমান বলেন, নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক পাইপলাইন গড়ে তুলতে হবে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার সুযোগ নষ্ট হবে। নারীদের জন্য ঘোষিত আর্থিক ও সামাজিক সুবিধাগুলো বাস্তবায়নের ওপরও তিনি জোর দেন।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নারী নেত্রী বা শিক্ষার্থী নেত্রী হয়রানির শিকার হলে দলকে ‘লিগ্যাল কোড অব কনডাক্ট’-এর আওতায় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। অর্থাৎ দলীয়ভাবে দায়িত্ব নিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পৃক্ততা ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয় না। নতুন নেতৃত্ব বিকাশে উপযুক্ত অভিভাবকত্ব ও সহায়তা প্রয়োজন। পুরুষদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, নারীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর সংযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারীনেত্রীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাজনীতিতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে নারী নেত্রীদের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। এতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা কমবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের সম্মিলিত উদ্যোগে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। তরুণদের মেধা কাজে লাগানো এবং নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে মেন্টরশিপ, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের সহায়তায় ডে-কেয়ার সেবার মানোন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা, সাইবার ও অফলাইন হয়রানি এবং বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।