রয়টার্সের প্রতিবেদন
প্রায় দুই দশক স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনমত জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি হতে পারেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
২০০৮ সালে সামরিক–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার পর চিকিৎসার কথা বলে লন্ডনে যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। গত আগস্টে ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর দেশে ফেরা বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ছিলেন তারেক রহমানের মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন এবং পরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
দেশে ফেরার পর তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রয়োজন, যাতে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি না হয়। একই সঙ্গে তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, তৈরি পোশাক খাতের বাইরে খেলনা ও চামড়াজাত শিল্পসহ নতুন খাত বিকাশ এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই দফা বা সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ভাষা ও ভঙ্গিতেও পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন তিনি। অতীতে প্রতিশোধের রাজনীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দেশে এখন প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা। তাঁর মতে, প্রতিশোধ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় দণ্ড দেওয়া হলেও সরকার পরিবর্তনের পর সব মামলায় তিনি খালাস পান। দীর্ঘদিন বিদেশে বসে দলের সংকট দেখলেও এখন তিনি সরাসরি প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা তদারক করছেন।
বিএনপির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতার অংশ হয়েও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। জবাবদিহি ও মানুষের রাষ্ট্র–মালিকানা ফিরিয়ে আনাই তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকার।