ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ‘স্বীকৃতি’ জানিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যে সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দলটির দাপ্তরিক ফেসবুক পেইজে পোস্টটি প্রকাশিত হয়। ছয় থেকে সাত মিনিটের মধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়। এর আগে পোস্টটি শতাধিকবার শেয়ার ও মন্তব্য করা হয়।
পোস্টে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে। আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিই এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। তবে জাতীয় ভোটের ফলাফল একটি গভীর ও জটিল বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে।’
এতে আরও বলা হয়, বিএনপি প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে বহু ভোটের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না বলেও উল্লেখ করা হয়। ৫৩টি আসনে বিএনপি অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছে দাবি করে বলা হয়, কয়েকটি আসন নির্বাচন কমিশনে পর্যালোচনাধীন এবং আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পোস্টে জাতীয় ফল প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে না উল্লেখ করে নির্দিষ্ট আসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের কথা বলা হয়। ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ থাকলে পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারের চেষ্টা চলবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এতে জুলাই সনদ ও গণভোটের ফলও তুলে ধরা হয়। দাবি করা হয়, ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যা সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৬৮ শতাংশ সমর্থন নির্দেশ করে। নতুন সরকারকে এ ম্যান্ডেট সম্মান করার আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বকে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই; পেইজের অ্যাডমিনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে।
শনিবার পর্যন্ত ঘোষিত ২৯৭ আসনের ফল অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন।