জাতীয় নির্বাচনে দুটি আসনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপ-নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই শূন্য আসনে প্রার্থী হিসেবে কার নাম আসছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। বিশেষ করে জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম সম্ভাব্য তালিকায় থাকায় এই নির্বাচন আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
বগুড়া-৬ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জিয়া পরিবারের বাইরেও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নাম শোনা যাচ্ছে।
দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের মতে, এই আসনটি দলের ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখানে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে যিনি কার্যকরভাবে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। তবে তৃণমূলের একটি অংশ চায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও স্থানীয় কোনো নেতাকে এবার সুযোগ দেওয়া হোক। এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই জানানো হবে এবং দল যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচন করবেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এই উপ-নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলটির বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনায় রয়েছে।
বগুড়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই উপ-নির্বাচন নিয়ে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। স্থানীয়রা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসনটি ছেড়েছেন বলে এখানে যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
ঐতিহাসিকভাবেই বগুড়া-৬ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসন থেকে বারবার বিজয়ী হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হলেও তিনি শপথ না নেওয়ায় ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এখান থেকে নির্বাচিত হন।