কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১১ বছর বয়সী শিশু জিহাদ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিশু জিহাদ নিহত হয়েছে—এমন দাবি করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ১২৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম রাজু। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বদিয়ার রহমান জানান, জিহাদ আসলে মারা যাননি, তিনি জীবিত আছেন। কেবল ‘বাসস্থান ও আর্থিক লাভের’ আশায় তাকে মৃত সাজিয়ে এই হত্যা মামলাটি করা হয়েছিল।
মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভিন্ন স্থানে সামান্য জখম হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে সাজানো হয়েছিল, যা তদন্তে ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু জিহাদ নিজেও আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বীকার করেছেন যে তিনি জীবিত এবং কেবল সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর শুক্রবার (২০ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যেহেতু এটি একটি হত্যা মামলা কিন্তু ভুক্তভোগী নিজেই জীবিত এবং আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হেলাল, শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা রয়েছেন।