বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
নবগঠিত এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দুই দিন আগে জমা দেওয়া সেই তদন্ত প্রতিবেদনে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং বিসিবির নিজস্ব সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউন্সিলরশিপ প্রদানের বিষয়টি সামনে আসায় এনএসসি বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
নবগঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে তামিম ইকবালের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান, সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং সাবেক ক্রিকেটার রফিকুল ইসলাম। কমিটির একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞ রাশনা ইমাম। অন্য সদস্যরা হলেন—ফাহিম সিনহা, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ ও মির্জা ইয়াসির আব্বাস। এই কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কার করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিসিবির বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির তালিকা ইমেইলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এনএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামোর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই কমিটি এখন থেকে পরবর্তী তিন মাস বিসিবির প্রশাসনিক ও নীতি নির্ধারণী সব দায়িত্ব পালন করবে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।