বাগেরহাটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। একই দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালামসহ আরও চারজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাগেরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) আমির মাওলানা মামুনুল হক মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কোপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাসুদ রানা। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের মাওলানা মশিউর রহমান খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি-জেপির স ম গোলাম সরোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক রয়েছেন।
বাগেরহাট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) মাওলানা রমিজ উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিসের (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক) বালী নাসের ইকবাল তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখানেও নির্বাচন করছেন এম এ এইচ সেলিম। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাগেরহাট-৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মোল্লা মো. রহমাতুল্লাহ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) মো. জুলফিকার হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখানেও এম এ এইচ সেলিম রয়েছেন। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
বাগেরহাট-৪ আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম রয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির মো. আ. লতিফ খান এবং জাতীয় পার্টি-জেপির সাজন কুমার মিস্ত্রি নির্বাচন করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে মোট ছয়জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আগামীকাল বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।