ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কর্ণফুলী চ্যানেলে বার্থিংয়ের সময় ট্যাংকার ভেসেল ‘গ্যাস হারমনি’ জাহাজের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথমে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ হারালেও চালনাকারী ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে জেটি কাঠামো থেকে মাত্র পাঁচ ফুট দূরত্বে জাহাজটি থামাতে সক্ষম হন। জাহাজটিতে পাঁচ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করা হচ্ছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলপিজিবাহী জাহাজটি বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে। ওই সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ক্যাপ্টেন জাহাজটিকে জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক এক দশমিক দুই মিটার দূরত্বে থামাতে সক্ষম হন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
বন্দর সূত্র জানায়, ‘গ্যাস হারমনি’ জাহাজটি পাঁচ হাজার টন এলপিজি নিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে বার্থিংয়ের জন্য জাহাজটি কর্ণফুলী চ্যানেলে প্রবেশ করে। জাহাজটিতে ৫১৫ টন প্রোপেন ও চার হাজার ৫৭০ টন বিউটেন গ্যাস ছিল।
সূত্র মতে, ১৫৯ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি বার্থিংয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটিতে আঘাত হানার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় ক্যাপ্টেন নোঙর ও টাগবোট ব্যবহার করে জাহাজের গতি কমান এবং দিক পরিবর্তন করেন। শেষ পর্যন্ত জেটি কাঠামো থেকে প্রায় এক দশমিক দুই মিটার দূরত্বে জাহাজটি থামানো সম্ভব হয়। অন্যথায় জান-মালসহ জেটি ও চ্যানেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
বহির্নোঙর থেকে জাহাজটি চ্যানেলে আনার কাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান, সরু চ্যানেলে যান্ত্রিক ত্রুটির পর জাহাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে ক্যাপ্টেন দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং জেটিতে আঘাত লাগার আগেই জাহাজটি থামাতে সক্ষম হন।