মাদারীপুর–১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মীর উপস্থিতির ঘটনা সামনে এসেছে। বৈঠকে তাঁরা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য দেন এবং ধানের শীষে ভোট চেয়ে স্লোগান দেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত ওই উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য দেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এসব নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন।
আওয়ামী লীগের এসব নেতার দাবি, সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে তাঁরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি করেছে।
বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, মাদারীপুর–১ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। জেলার বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের অনুসারী। তাঁর ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীরা উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর তুলনায় নাদিরা আক্তার ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার থেকে নাদিরা আক্তার আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উঠান বৈঠক করছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকটি ছিল বড় পরিসরের। সেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা একসঙ্গে মঞ্চে বসেন।
পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তা, সদস্য আবু জাফর চৌধুরী, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আজমল খানসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহল রানা।
বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাহার ব্যাপারী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা, চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন রায়হান সরকারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা।
শিবচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হোসেন খান বক্তব্যে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন এবং বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।
উঠান বৈঠকে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতিতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। কে কোন দল করেছে, সেটা মুখ্য নয়; মানুষই মুখ্য।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর শিবচরে কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হবে না এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে শিবচরের উন্নয়ন সম্ভব।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। এখানে কোনো দলকে পুনর্বাসনের প্রশ্ন নেই।
প্রসঙ্গত, প্রথমে বিএনপি এই আসনে কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দেয়। পরে মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ ও বিরোধের জেরে দ্বিতীয় দফায় নাদিরা আক্তারকে প্রার্থী করা হয়। সম্প্রতি দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ উপজেলা বিএনপির ১০ নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এদিকে বহিষ্কৃত দুই বিদ্রোহী প্রার্থীও আওয়ামী লীগের নেতাদের সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার উঠান বৈঠকে শিবচর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিকে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা গেছে।