মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৩ জনই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা সবাই স্থানীয় খোরশেদ খান ও তাঁর ছেলে মিজান খানের স্বজন। আহতদের মধ্যে মিজান খান বাদে বাকি ১৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হারুন খান ও তাঁর ভাতিজা মান্নান খানের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন এই হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মিজান খানের মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে। রাতে হেলমেট পরে বাড়ি ফেরার সময় হারুন ও মান্নান তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মিজানকে মারধর করা হয়। পরে মিজানের বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে হারুন ও মান্নান তাঁদের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলাকারীরা শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুরা গুলিবিদ্ধ হন। এমনকি আহতরা যন্ত্রণায় কাতরালেও তাঁদের দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল জানান, রাত ১২টার পর আহতরা হাসপাতালে আসেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়। এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার এবং পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্কের কারণেই হামলাকারীরা সাধারণ মানুষকে হেলমেট পরতে বাধা দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন, মান্নান ও মহসিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বৈধ একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।