চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন। তবে অভিযানের খবর আগেভাগে পেয়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় প্রবেশের মূল রাস্তায় বড় ট্রাক রেখে এবং কালভার্ট ভেঙে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা চালকসহ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে। আলীনগর এলাকায় মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে এক সন্ত্রাসীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যিনি গত জানুয়ারিতে এক র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি। মূলত যৌথ বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতেই রাতের আঁধারে রাস্তার স্ল্যাব তুলে ফেলা এবং কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান জানান, জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম হওয়ায় এটি সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবন্ধকতাগুলো সরিয়ে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করেছে এবং অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অস্ত্র বা গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’ এলাকায় একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জুড়ে বিস্তৃত, যা গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এখানে প্লট-বাণিজ্য ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি চারপাশ থেকে ঘিরে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে, যাতে কোনো অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে না পারে।