বাগেরহাটের মোংলা পৌর কবরস্থানে আজ শুক্রবার একই পরিবারের ৯ সদস্যকে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে। রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাফনের জন্য কবরস্থানে পাশাপাশি ৯টি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁদের শায়িত করার মধ্য দিয়ে এক বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।
মোংলা কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির এই ঘটনাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছরের পেশাগত জীবনে কখনও এক সঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কবর খুঁড়তে হয়নি। ৯টি কবর পাশাপাশি প্রস্তুত করার সময় শোকাতুর এই বৃদ্ধের হাত কাঁপছিল এবং তিনি বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন।
নিহতদের মরদেহ শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় মোংলার শেওলাবুনিয়ায় পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক নিস্তব্ধ ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাঁদের দেখতে ভিড় জমান এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত নারীদের মরদেহ বাড়িতে এবং পুরুষদের মরদেহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে দাফনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূলে ছিল গত বুধবার রাতের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান। আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। ফেরার পথে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, ‘রাজ্জাক ভাই ছেলের বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলবেন এই আনন্দ নিয়ে সবাই ছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দের বিয়েই আজ পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল।’ পরিবারের স্বজনরা যাতে চিরনিদ্রায় একই স্থানে শায়িত থাকতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গোরস্থানে এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাঁদের মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে কনে নিয়ে ফেরার পথে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেবল একটি পরিবারকে নয়, বরং পুরো মোংলাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।