ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া ফতুল্লার আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা পারভীন মিনুর (৪৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১১। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাইম উল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম খান (৫২) এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মো. আনিছুর রহমান (৪০)। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে ঢাকার ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার তুষারধারা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হাসিনা পারভীন মিনু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের পাশে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাইম উল হক জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ডেমরার মাহমুদনগর থেকে জহিরুল ইসলামকে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকা থেকে আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে।