কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আবদুর রহমান ওরফে শামীম নামের এক পীরকে হত্যার অভিযোগে জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদকে হুকুমের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এই হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, জামায়াত কর্মী রাজীব মিস্ত্রি এবং মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাব। এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক শিবির নেতা খাজা আহম্মেদের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরবার শরিফে হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের মতে, আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণায় দেখা গেছে এবং তিনি খাজা আহম্মেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মামলার বাদী ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি মামলার আসামিদের চেনেন না। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, বাদী দীর্ঘ সময় থানায় উপস্থিত থেকে এজাহার পড়ে স্বাক্ষর করেছেন। বাদী কেন এখন আসামিদের চেনার কথা অস্বীকার করছেন, তা পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরে খাজা আহম্মেদের হুকুমে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দরবার শরিফে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আসামিরা লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমানের মাথায় ও কোমরে আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে দরবার শরিফের পরিচারিকা ও জোবায়ের নামের একজন আহত হন। হামলায় আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষতি এবং আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তেজিত জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে আস্তানায় ঢুকে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। একপর্যায়ে একদল যুবক দোতলায় উঠে আবদুর রহমানকে খুঁজে বের করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুর রহমান হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইলেও আসামি রাজীব মিস্ত্রি তাঁকে আঘাত করেন এবং অন্যরা তাঁকে মারধর করতে করতে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যান।
অভিযুক্ত খাজা আহম্মেদ ও আসাদুজ্জামান তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। খাজা আহম্মেদের দাবি, তিনি আইনি উপায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলেন এবং হামলার খবর পেয়ে নিহতের ভাইকেই সতর্ক করেছিলেন। আসাদুজ্জামানও দাবি করেছেন যে, হামলার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় কিছু লোক হামলা শুরু করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।