ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন দেশটির শাসকগোষ্ঠী সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘গতকাল ইরানের নেতারা ফোন করেছিলেন। একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। তারা আলোচনা করতে চায়।’ তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তবে বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠছে। কিছু মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের নিহত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি যদি এদের নেতা বলেন—আমি জানি না তারা নেতা, নাকি শুধু সহিংসতার মাধ্যমে শাসন করে।’ এই মন্তব্য তিনি করেন এমন এক সময়ে, যখন তার প্রশাসন সম্প্রতি এক মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যিনি গাড়ির ভেতরে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনীও দেখছে। আমাদের সামনে কিছু খুব শক্তিশালী বিকল্প আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
ইরান কোনো ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সামরিক পরিকল্পনার কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আপনি কি চান আমি বলে দিই—আমরা কী করব, কোথায় হামলা করব, কখন করব, কোন দিক থেকে করব?’
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রতি ঘণ্টায় হালনাগাদ তথ্য পাচ্ছেন। ‘আমরা সিদ্ধান্ত নেব,’ বলেন তিনি।
বিক্ষোভে হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভিড়ের চাপে। তার ভাষায়, ‘কিছু বিক্ষোভকারী পদদলিত হয়ে মারা গেছে। এত মানুষ ছিল যে এমনটা হয়েছে। আবার কিছুজনকে গুলিও করা হয়েছে।’
ইরান বা তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার বিষয়ে প্রশ্নে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি তারা সেটা করে, আমরা এমনভাবে আঘাত করব, যেভাবে তারা আগে কখনো আঘাত পায়নি। তারা বিশ্বাসই করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইরানের বোঝার কথা। এক সাংবাদিককে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন না তারা আপনার হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়? আমার সঙ্গে বছরের পর বছর লড়াইয়ের পর—সোলেইমানি, আল-বাগদাদি, ইরানের পারমাণবিক হুমকি—সবকিছুই শেষ করে দেওয়া হয়েছে।’
ট্রাম্প বলেননি, এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন কি না। কোনো সিদ্ধান্তের সময়সূচিও তিনি জানাননি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে একাধিক দফায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে।