যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থাগুলো। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর ফলে ইসরায়েল, দুবাই ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ফ্রান্সের একাধিক বড় বিমানসংস্থা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সংস্থা জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে ফ্রান্সের একটি শীর্ষ বিমানসংস্থা জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের জাতীয় বিমানসংস্থা জানিয়েছে, তারা ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো গন্তব্যে আপাতত ফ্লাইট পরিচালনা করবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি একে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যই এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতার লক্ষণ নেই। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ শিগগিরই আরব সাগর বা পারস্য উপসাগর অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফ্রান্সের ওই বিমানসংস্থা ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো তেল আবিবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ফ্লাইট বাতিল করেছে। জার্মানির একটি শীর্ষ বিমানসংস্থা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলে কেবল দিনের বেলা ফ্লাইট চালাবে এবং ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে।
নেদারল্যান্ডসের গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির জাতীয় বিমানসংস্থা জানায়, তারা তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একাধিক বিমানসংস্থাও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় ইরান কয়েক ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখে, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে।