ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ওয়াশিংটনের চাওয়া পূরণের আহ্বান জানিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ না হলে নিকোলা মাদুরোর মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেবেন তিনি।
বুধবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক-বিষয়ক কমিটির সামনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। প্রস্তুত করা বক্তব্যের খসড়ায় বলা হয়েছে, দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর পরিণতি সম্পর্কে অবগত এবং তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ওয়াশিংটনের ধারণা।
খসড়ায় আরও বলা হয়, অন্য সব কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক কৌশল ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা আদায়ে শক্তি প্রয়োগের বিকল্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে—এমন অবস্থানের কথা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠার পরই সিনেট কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে সম্মত হন রুবিও। অভিযোগ রয়েছে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের পর্যাপ্তভাবে অবহিত না করেই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক সামরিক অভিযানে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তাঁদের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হলেও মাদুরো দম্পতি তা অস্বীকার করেছেন।
প্রস্তুত বক্তব্যে রুবিও এই অভিযানকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে বলেন, কোনো মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি বা সামরিক দখলদারত্ব ছাড়াই অভিযানে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প বিনিয়োগে বড় ফল পাওয়ার বিরল উদাহরণ এটি।
তবে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় মাদুরোকে রক্ষা করতে গিয়ে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি কিউবার নাগরিকও রয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা অনেক দেশ মাদুরোকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মাদুরোকে সরিয়ে নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা করবেন—এমন ইঙ্গিতও বক্তব্যের খসড়ায় রয়েছে।