বিশ্ববাজারে সোনার দাম সোমবারও কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাজার সিএমই এক্সচেঞ্জে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে মার্জিন (জামানত) বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদহার নিয়ে কী অবস্থান নেন, সেটিও বিবেচনায় রাখছেন।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যায় বলা হয়, মার্জিন বাড়লে ব্যবসায়ীদের বেশি অর্থ আটকে রাখতে হয়। এতে অনেকেই অবস্থান কমাতে বা সোনা বিক্রি করতে বাধ্য হন। সেই বিক্রির চাপ দামে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি করে।
প্রতিবেদন লেখার সময় স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৯৫ ডলারে। অধিবেশনের শুরুতে দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার সোনা রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠেছিল।
এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার ফিউচার্স দামও কমেছে। প্রতি আউন্স দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭২৯ দশমিক ২০ ডলার।
কেসিএমের চিফ ট্রেড অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটারারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ওয়ার্শকে মনোনয়নের খবরটি হয়তো প্রাথমিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে, তবে এত বড় দরপতনের পেছনে বাধ্যতামূলক বিক্রি ও মার্জিন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মিলিয়ে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সিএমই গ্রুপ শনিবার ধাতব ফিউচারের মার্জিন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। জানানো হয়, পরিবর্তনগুলো সোমবার বাজার বন্ধের পর কার্যকর হবে। এতে এক আউন্স সোনা ফিউচারের মার্জিন ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছে। কমেক্সে ৫ হাজার আউন্স রুপা ফিউচারের মার্জিন ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম ফিউচারেও মার্জিন চাহিদা বাড়বে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্জিন বাড়ানো সাধারণত সংশ্লিষ্ট ফিউচার্স চুক্তিগুলোর জন্য নেতিবাচক হিসেবে ধরা হয়। কারণ বেশি মূলধন জমা রাখার প্রয়োজন হলে বাজারে জল্পনাভিত্তিক বিনিয়োগ কমে যায়।
অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা ফেড নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখছেন। কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নিলে সুদহার কমানোর গতি ও পরিমাণ কতটা হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে অন্তত দুবার সুদহার কমতে পারে। সুদহার কম থাকলে সাধারণত সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি আগ্রহ বাড়ে—এই সম্পর্কও দামের গতিপথে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট বাজারে রুপার দাম ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৪ ডলার ৭০ সেন্ট। একই সময়ে প্যালাডিয়াম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৪২ ডলার ৩৫ সেন্টে নেমে এসেছে।